রাজ্যের ৭ জেলায় হু’হু করে বাড়ছে অনুপ্রবেশ সমস্যা—এই অভিযোগকে সামনে রেখে ভোটের মুখে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়াল বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, কংগ্রেসের দীর্ঘ ২০ বছরের শাসনকালে অসমের সাতটি জেলায় প্রায় ৬৪ লক্ষ অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েছে। তাঁর বক্তব্যে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ নয়, সরাসরি ভোটব্যাংক রাজনীতির দিকেও আঙুল তুলেছে বিজেপি।
অমিত শাহের দাবি অনুযায়ী, দুবড়ী, বরপেটা, দরং, মরিগাঁও, বঙ্গাইগাঁও, নওগাঁও ও গোয়ালপাড়া—এই সাতটি জেলা আজ কার্যত অনুপ্রবেশকারীদের দখলে। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস শাসনের আগে এই জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও অস্তিত্বই ছিল না। অথচ আজ সেখানে বসবাস করছে প্রায় ৬৪ লক্ষ মানুষ, যাদের বড় অংশই সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ।
এই বিপুল অনুপ্রবেশকে অমিত শাহ শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মদদের ফল। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি এতদিন এই অনুপ্রবেশকারীরাই ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে আসছিল? ভোটব্যাংকের স্বার্থে কি রাজ্যের নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে? বিরোধীদের কটাক্ষ, এই পরিস্থিতির দায় সম্পূর্ণভাবে তৎকালীন শাসকদলের উপরই বর্তায়।
শুক্রবার অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী ধীমাচিতে জনসভা করে অমিত শাহ বলেন, অনুপ্রবেশ ইস্যু শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি রাজ্যের জনসংখ্যার চরিত্র বদলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর বিষয়। তিনি স্পষ্ট জানান, সাধারণ মানুষকে অস্ত্র হাতে সীমান্তে যেতে হবে না—এই দায়িত্ব পালন করবে বিজেপি শাসিত সরকার। অসমে হেমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানেই প্রমাণ মিলেছে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে অনুপ্রবেশ রোখা সম্ভব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, বিজেপির পরপর দুই সরকারের আমলে প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার একর জমি অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে দখলমুক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, অনুপ্রবেশকারীরা রাজ্যের যুবকদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, গরিব মানুষের রেশন খেয়ে নিচ্ছে এবং রাজ্যের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। তাই এই সমস্যার চূড়ান্ত জবাব দিতে হবে ভোটের বাক্সে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সফরেও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখেই শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ করেন অমিত শাহ। উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে বিজেপির কর্মী সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তিনি নিজে মমতা ব্যানার্জী-র অফিসে গিয়ে বিএসএফের জন্য জমি চেয়েছিলেন, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় জমি দিতে গড়িমসি করা হয়েছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যেই বিএসএফকে সমস্ত প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর শুরু হতেই বহু অনুপ্রবেশকারী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, যা প্রমাণ করে সমস্যার গভীরতা কতটা ভয়াবহ।
ভোটের মুখে রাজ্যের সাত জেলায় অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে এই বিস্ফোরক দাবি রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। শাসক ও বিরোধী—দু’পক্ষের তরজায় স্পষ্ট, অনুপ্রবেশ ইস্যু এবার নির্বাচনের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠতে চলেছে। প্রশ্ন একটাই—রাজ্যের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত রায় দেবে কারা, সেটাই এখন দেখার।





